ষ্টেমসেল - জীবন এবং জীবন প্রক্রিয়া ।

 

ষ্টেমসেল - জীবন এবং জীবন প্রক্রিয়া

 


জীবন্ত স্টেম সেল থেরাপী অনেক ব্যয় বহুল এর্ং নিরাপদ নয়।ব্যয় বহুল হওয়ার কারনে সাধারনে এটা ব্যবহার করা প্রায় এবং নিরাপদ নয় কারনে, একজনের দেহের স্টেম সেল অন্য জনের দেহে ১০০% ম্যাচ করে না। ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নিজ দেহের স্টেম সেল ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে কাজ হচ্ছে পদ্ধতিকে বলা হয় "অটোলোগাস"

সংবাদটি হচ্ছে "স্টেম সেল " তো কৃত্রিম ভাবে তৈরি হয় না। একটি জীবন্ত দেহে প্রতিনিয়ত স্টেম সেল তৈরি হয়। দেহের বাইরে সংরক্ষিত "স্টেম সেল " বেশী দিন বাঁচে না এবং ইনএকটিভ থাকে। শুধু মাত্র জীবন্ত দেহে এটি সক্রিয় হয়। তাই এই ব্যয়বহুল এবং অনিরাপদ ষ্টেম সেল পুষ করার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে বিজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত নয়।

 

জীবন্ত ষ্টেমসেল বেচে থাকার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং উত্তম নিবাস হলো দেহ। বিজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত যে, প্রতিটি ষ্টেমসেল এবং কোষ বেচেঁ থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি। অক্সিজেন ছাড়া কোষ দেড় মিনিটের বেশী বাঁচেনা এবং কোষের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি হলো ০৬ ফ্যাইটো কেমিক্যাল। যা হলো এমাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড, গ্লকোজ, ভিটামিনস, মিনারেল এবং পানি। এবং ষ্টেমসেল এবং দেহ কোষের আরোও প্রয়োজন হয় প্রায় ৩০/৩২ ধরনের মিনারেলস – যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, নাইট্রোজেন, কার্বন, আয়রন, ক্লোরিন ফ্লোরিন ইত্যাদি সহ সকল প্রকার ভিটামিন। এই গুলো ষ্টেমসেল এবং দেহ কোষের প্রায় রাসায়নিক কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয়। এর এই সকল প্রকার পুষ্টির যোগানদাতা প্রাকৃতিক খাদ্য। ষ্টেমসেল এর প্রয়োজনীয় এই পুষ্টি গুলো উদ্ভিদ দেহে তৈরী হয়। তাই সুষম প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহন এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই ষ্টেমসেল এর খাদ্য। বাহির হতে জীবন্ত ষ্টেমসেল প্রবেশ বা পুষ করানো পরেও সেই ষ্টেমসেল এর বেচেঁ থাকার এবং কাজ করার জন্য এই অক্সিজেন এবং ফাইটো কেমিক্যাল এর প্রয়োজন।

স্টেম সেল নিউট্রিশন থেরাপী মূলতঃ ষ্টেমসেল এবং কোষের পুষ্টির ব্যবস্থাপনা। দেহ কোষ ড্রাগ, ডাক্তার, হাসপাতাল কিছুই চেনে না। দেহ কোষ শুধু চেনে প্রাকৃতিক পুষ্টি অক্সিজেন। কোষ কোন পুষ্টি কিভাবে ব্যবহার করে এবং পুষ্টির ব্যবহার করে কি কি প্রান রাসায়নিক কাজ সম্পন্ন করে এটি প্রান রসায়ন গবেষনার মাধ্যমে জানা গেছে। সুতরাং স্টেম সেল নিউট্রিশন থেরাপীর প্রয়োজনীয়তা আছে যদি কারও দেহে জীবন্ত ষ্টেমসেল প্রবেশ ঘটানোও হয়।

ষ্টেমসেল নিউট্রিশন ১০০% কার্যকরী নিরাপদ কারন এটি কোষের খাবার।


ষ্টেমসেল – জীবন, জীবন প্রক্রিয়া  

প্রত্যেকষ্টেমসেলমাইটোসিস (দেহ কোষ বিভাজন) প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয় এবং নতুন পুর্নাঙ্গ কোষ সৃষ্টি করে। ষ্টেমসেল এর এই বিভাজন ক্ষমতা অনির্দিষ্ট কাল ধরে চলে। ফলে মৃত্যুর পূ্র্ব পর্যন্ত দেহের পুর্ন গঠন প্রক্রিয়া অব্যহত থাকে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ষ্টেমসেল থেরাপী এর মাধ্যমে এই রোগের সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছে। আধুনিক চিকিৎসায় বর্তমানে ষ্টেমসেল নিউট্রেশন থেরাপি বিজ্ঞানিত ভাবে প্রমানিত এবং সার্টিফাইড।

 

 ষ্টেমসেলের পুষ্টি (খাদ্য) গ্রহন বিপাক প্রক্রিয়া 

 

: অ্যামিনো অ্যাসিড :


 অ্যামিনো অ্যাসিড একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা উদ্ভিদ দেহে সংশ্লেষিত হয়। প্রানী উদ্ভিদ ভক্ষন এর মাধ্যমে নিজ দেহে এটি পেয়ে থাকে। মানুষ প্রানী ও উদ্ভিদ ভক্ষন এর মাধ্যমে এটি নিজ দেহে গ্রহন করে থাকে। মানুষের পরিপাক তন্ত্র উদ্ভিজ ও প্রানীজ খাবার বিশ্লেষন করে অ্যামিনো অ্যাসিড পৃথক করে এবং পরিপাক তন্ত্র হতে লিভার এ প্রেরন করে। অ্যামিনো অ্যাসিড এর একটি অংশ লিভারে বিপাক হয় এবং এ্যমোনিয়া, ইউরিয়া, নাইট্রোজেন তৈরি হয়। অন্য একটি অংশ সরাসরি রক্ত স্রোতে প্রবাহিত হয়। রক্ত স্রোতের অ্যামিনো অ্যাসিড দেহ কোষের প্রয়োজনীয় প্রোটিন  তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। দেহ কোষ অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করে হাজার হাজার এনজাইম, লক্ষাধিক প্রোটিন,অর্ধশতাধিক হরমোন , বিলিয়ন বিলিয়ন এন্টিবডি তৈরি করে। যেমন এলবুমিন অনু তৈরির জন্য লিভার কোষ ৬১০টি অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করে। ইনস্যুলিন অনু তৈরির জন্য বিটাসেল ৫১ টি অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করে। হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য বোন ম্যারো টিস্যুর প্রযোজন হয় ২৮৭ টি অ্যামিনো অ্যাসিড । প্রানী দেহ গঠনের প্রধান জৈব রাসায়নিক উপাদান হচ্ছে অ্যামিনো অ্যাসিড’

প্রতিদিন একজন পূর্ন বয়স্ক মানুষের প্রোটিন এর চাহিদা ১ কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম। অনুমোদিত প্রানীজ প্রোটিন এর পরিমান ৩০ গ্রাম।

একটি অ্যামিনো অ্যাসিড হল একটি জৈব অণু যা একটি মৌলিক অ্যামিনো গ্রুপ (−NH 2 ), একটি অ্যাসিডিক কার্বক্সিল গ্রুপ (−COOH), এবং একটি জৈব R গ্রুপ (বা পাশের চেইন) দ্বারা গঠিত যা প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য অনন্য। অ্যামিনো অ্যাসিড শব্দটি α-অ্যামিনো [আলফা-অ্যামিনো] কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের জন্য সংক্ষিপ্ত।

অ্যামিনো অ্যাসিড যে যে খাবার হতে পাওয়া যায় তা হলো ঃ

মাংস, হাঁস-মুরগি, মাছ, ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য, মটরশুটি এবং legumes, বাদাম এবং বীজ, সয়া পণ্য, গোটা শস্য ইত্যাদি। 


: ফ্যাটি এসিড :


ফ্যাটি এডিস উদ্ভিদ দেহে সংশ্লেষিত হয়। প্রানীজ দেহ প্রচুর পরিমান ফ্যাট ধারন করে। উদ্ভিদ ও প্রানী দেহের চর্বি মূলত: ফ্যাটি এসিডের চেইন। প্রানি ও উদ্ভিদ কোষের, কোষ প্রাচীর এবং কোষ অঙ্গানুর প্রাচীর ফ্যাটি এসিড জাত পদার্থ দিয়ে তৈরি। প্রতিটি কোষের গঠনাকৃতি তৈরি হয় ফ্যাটি এসিড জাত পদার্থ দিয়ে। এই জন্য কোষের ফ্যাটি এসিড ভারসাম্য নষ্ট হলে কোষ এর কার্যকারীতা নষ্ট হয় ,কোষ অসুস্থ এবং মৃত্যুবরন করে। ফ্যাটি এসিডের গোলমাল হলে দেহে স্নায়ুতন্ত্রের নানা  রোগ হয়। স্নায়ু কোষের স্নায়ু পরিবাহী তন্তু গুলির পৃষ্ট ভাগ ফ্যাটি এসিড জাত উপাদান দিয়ে তৈরি।

ফ্যাটি অ্যাসিড হল একটি অ্যালিফ্যাটিক চেইন সহ একটি কার্বক্সিলিক অ্যাসিড, যা হয় স্যাচুরেটেড বা অসম্পৃক্ত । কার্বক্সিল মূলকবিশিষ্ট অ্যালিফেটিক জৈব যৌগসমূহকে ফ্যাটি এসিড বলে। এটি এক ধরনের অসম্পৃক্ত মনোকার্বক্সিলিক এসিড আমাদের মস্তিষ্কের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই এই ফ্যাটি এসিড

ফ্যাটি এসিড প্রধানত দুই প্রকার

) এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড।

) নন-এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড

এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড হলো সেই সমস্ত ফ্যাটি এসিড যা আমাদের শরীর তৈরি করতে পারে না এবং আমরা খাবারের মাধ্যমে তা পেয়ে থাকি। 

অন্যদিকে নন-এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীর প্রস্তুত করে থাকে

সমুদ্রের শ্যাওলা ও ফাইটোপ্ল্যাংকটন হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রধান উৎস। এই শ্যাওলা খাওয়া মাছে ডিএইচএ ও ইপিএ জমা হয়। উদ্ভিজ্জ তেলে এএলএ এর সাধারণ উৎসগুলোর মধ্যে আছে আখরোট, খাবারযোগ্য বীজ, তিসি বীজ এবং হেম্পসিড তেল, এছাড়াও মাছ, মাছের তেল ও শ্যাওলা তেলে ইপিএ ও ডিএইচএ পাওয়া যায়।

  

 : গ্লুকোজ :


গ্লুকোজ হলো একটি simple সুগার বা সরল চিনি, যাকে মনোস্যাকারাইড হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় এবং এটি শরীরের শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসাবে কাজ করে। এটি কার্বোহাইড্রেট পরিবারের অন্তর্গতএবং কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণু দ্বারা গঠিত।

এর সংকেত হলো C6H12O6. এটিকে সরল চিনি বলার কারণ হলো এটি ক্ষুদ্রতম চিনির অনু। এটি আমাদের রক্তের সাথে মিশে শক্তির যোগান দেয় এজন্য একে Blood Sugar বলা হয়।

এটি একটি জৈব রাসায়নিক উপাদান যা উদ্ভিদ দেহে প্রস্তুত হয়। । উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষন প্রাক্রিয়ায় (পানি ,আলো ও কার্বনডাইঅক্সাইড এর সাহায্যে) এটি তৈরি করে। প্রাণী দেহে যে গ্লুকোজ পাওয়া যায় তা উদ্ভিদ ভক্ষন এর মাধ্যমেই আসে।

মানুষের পরিপাক তন্ত্র উদ্ভিদজ ও প্রানীজ খাবার কে বিশ্লেষন করে গ্লুকোজ পৃথক করে। এই গ্লুকোজ অন্ত্র হতে পোর্টাল ভেইন এর মাধ্যমে ‘লিভারে’ পৌঁছে। গ্লুকোজ কে নিয়ে লিভারে বহু কার্য সম্পাদন হয়। লিভার গ্লুকোজ এর একটি অংশ নিয়ে বিপাক প্রক্রিয়া চালায়। অন্য একটি অংশ মূল রক্ত স্রোতে পরিচালিত হয়। রক্ত স্রোত থেকে দেহের  প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ গ্রহন করে ‘ক্র্যাব সাইকেল’ (Kreb’s Cycle) সম্পন্ন করে। ক্র্যাব সাইকেলের সর্বশেষ ধাপে রাসায়নিক শক্তি (ATP),পানি,ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উপন্ন করে। আনবিক ওজন  (C6H12O6) (গ্লুকোজ’= ১ মোল=১৮০গ্রাম)  গ্লুকোজ’ হতে ৩৮ টি এটিপি তৈরি হয়। এক মোল গ্লুকোজ হতে ৬৮৬,০০০ ক্যালরী উপন্ন হয়। ১ মোল এটিপি হতে ৫০০০ হতে ১৫০০০ ক্যালরী তৈরি হয়।)  এটিপি প্রস্তুত কালে প্রতিটি কোষ হাইড্রোজেন আয়ন বা মুক্ত ইলেকট্রন (Free Radical) উৎপন্ন করে। রেসপাইরেটরি চেইন (Respiratory chain reaction) বিক্রিয়ায় এটি অক্সিজেন অনুতে পরিনত হয়। বিভিন্ন ভিটামিন রেসপাইরেটরি চেইন বিক্রিয়ায় মুক্ত আয়ন পরিবহনে কাজ করে। রেসপাইরেটরি চেইন বিক্রিয়ায় ব্যাঘাত হলে ফ্রী রেডিক্যাল বেড়ে গিয়ে কোষে নানা রকম অসুস্থতা দেখা দেয়। এই বিক্রিয়া কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায়  (কোষের ভিতরের একটি অঙ্গানু) সংগঠিত হয়।

ইনস্যুলিন এর সাহায্য ছাড়া দেহ কোষে গ্লুকোজ’ প্রবেশ করতে পারে না। ইনস্যুলিন একটি প্রোটিন যা প্যাংক্রিয়াসের বিটা সেলে সংশ্লেষিত হয়। ইনস্যুলিন উৎপাদনের জন্য বিটা সেলের ৫১ টি এমাইনো এসিড ও এক অনু জিংক এর প্রয়োজন হয়।

কোষের এই উৎপাদিত শক্তিই মূলতঃ কোষের সকল প্রকার কাজের শক্তির উৎস হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই শক্তির উৎপাদন ব্যহত বা ব্যবহার সঠিক ভাবে না হলেই দেহ কোষ রোগগ্রস্ত ও মৃত্যুবরন করে।

শরীরে শর্করার চাহিদা মেটাতে চিনি, গুড়, মধুর পাশাপাশি দুধ দুগ্ধজাত পণ্য, চিয়া, ফ্লেক্স ইত্যাদি বীজ, মিষ্টি ফল ফলের রস খেতে পারেন। ভাত, রুটি, পাঁউরুটিইত্যাদি খাবার থেকেও শর্করাপাওয়া যায়। খেতে পারেন নানা ধরনের ডাল, চিঁড়ে, সুজি।

  

  

: ভিটামিন :



ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ (ইংরেজি: Vitamin) হলো জৈব খাদ্য উপাদান যা সাধারণত খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দেহে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণের অভাবে বিভিন্ন রোগ বা সমস্যার প্রাদুর্ভাব হয়। যেমন ভিটামিন A'র অভাবে চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

 এ,বি১,২,৬,১২,সি,ডি,ই, কে অনেক গুলো ভিটামিন উদ্ভিদ প্রস্তুত করে। কোষের জৈব  রাসায়নিক কার্যক্রমকে  গতিশীল রাখার জন্য পরিমান মত প্রতিটি ভিটামিন প্রয়োজন হয়। ভিটামিনের  অভাবে প্রতি মহূর্তেই কোষের  প্রান রাসায়নিক  কাজ ব্যাহত হয়। উদাহরন  স্বরুপ ভিটামিন-ডি এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা যায়।

ভিটামিন-ডি হাড় তৈরিতে গুরুত্ব পূর্ন ভূমিকা পালন করে। দেহের হাড় তৈরির জন্য প্রয়োজন ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। ৯৯ ভাগ ক্যালসিয়াম এর সাথে ০১ ভাগ ফসফরাস একত্রিত হয়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট তৈরি হয় যা মূলতঃ হাড় তৈরির প্রধান উপাদান। ভিটামিন-ডি এর উপস্থিতি ছাড়া ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হয় না। প্যারা-থাইরয়েড হরমোন প্যারা-থাইরয়েড ভিটামিন-ডি এর কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রন করে।

একই ভাবে ভিটামিন-বি১২ লাল রক্ত তৈরিতে প্রয়োজন হয়। এভাবে ভিটামিন-এ,বি-১,২,৩,৬,সি, ই,কে এর অভাবে নির্দিষ্ট রোগ হয়। প্রতিদিন পরিমান মত নির্দিষ্ট ভিটামিন প্রতিটি দেহ কোষের প্রয়োজন হয়। একমাত্র উদ্ভিদ দেহে এটি প্রস্তুত হয়। মানুষ  উদ্ভিদ ভক্ষন এর মাধ্যমে  এটি নিজ দেহে পেয়ে থাকে।

ছোট মাছ, দুধ, মাখন, কড লিভার ওয়েল, ঘি, মাংস, ডিম, গাজর, পালংশাক, বাধাকপি, ব্রকলি, লাল মরিচ, টমেটো, কুমড়া, লেটুস, আম, জাম্বুরা, পাকা পেঁপে ইত্যাদি। ভিটামিন-বি জাতীয় খাবার: বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন-বি রয়েছে যেগুলোকে একসঙ্গে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স বলে।

 

  : মিনারেল :


মিনারেল বা Mineral হলো খাদ্যের সেই মৌলিক উপাদান যা আমাদের খাবারে উপস্থিত থাকে এবং নানা রকম শরীরবৃত্তীয় কাজে আমাদেরকে সাহায্য করে। অনেক সময় ভিটামিন ও mineral শব্দ দুইটি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এরা আসলে এক না।

Mineral হলো প্রধানত অজৈব উপাদান। আমাদের শরীর নানা রকম কাজে নানা রকমের মিনারেলস ব্যবহার করে থাকে। এই উপাদান সমূহ আমাদের সার্বিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়।

আমাদের শরীরে নানা অনুপাতে এই সকল উপাদানগুলো প্রয়োজন হয়। এই সকল উপাদানের অভাবে আমাদের শরীরে নানা রকম অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। আমরা এই সকল উপাদান পেতে পারি mineral এ পরিপূর্ণ খাবার থেকে।

মিনারেল একটি খনিজ পদার্থ। যার উৎস মাটি। উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে এই খনিজ সংগ্রহ করে নিজ দেহে সঞ্চিত করে। মিনারেল দেহ গঠনের এটি অপরিহার্য উপাদান। এই খনিজের উৎস উদ্ভিদজাত খাবার। সরাসরি মাটির উৎস থেকে দেহ এই খনিজ পদার্থ গ্রহন করতে পারে না।

মানব দেহ কোষে ৯০ গ্রাম সোডিয়াম এবং ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। কোষের অভ্যন্তরে পটাশিয়াম এবং বাইরে সোডিয়াম বেশি থাকে। প্রতিদিন দেহের জন্য ৪ গ্রাম পটাশিয়াম ও ৫-১৫ গ্রাম সোডিয়াম প্রয়োজন হয়। কিডনির “এড্রেনাল গ্ল্যান্ড” থেকে নিঃসৃত হরমোন “এলডোসটেরন” দেহের সোডিয়াম ও পটাশিয়াম এর ভারসাম্য নিয়ন্ত্রন করে। এলডোসটেরন ক্ষরন বন্ধ থাকলে দেহ থেকে “সোডিয়াম” বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত “এরডোসটেরন” নিঃসরন ঘটলে দেহে সোডিয়াম সঞ্চয় হয় এবং পানি বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ হয়।

প্রতিটি মিনারেলই আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রকার রোগের কাজ করে। নিচে আলাদা আলাদ কিছু মিনারেল এর কাজ উল্লেখ করা হলো ঃ

১) ক্যালসিয়াম – হাড়ের গঠন, পেশি মেরামত, রক্ত জমাট।

২) ক্লোরাইড - রক্তের ঘনত্ব, রক্ত চাপ ও শরীরের অন্যান্য তরল উপাদানের pH লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে।

৩) কপার – লোহিত রক্ত কনিকা, স্নায়ুর স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরন।

৪) ম্যাগনেশিয়াম – শক্তি উৎপাদন, হাড় গঠন, পেশি এবং স্নায়ুর সঠিত সংচালন।

৫) আয়রন – অক্সিজেন সরবরাহ, শুক্তি উৎপাদন এবং সঞ্চয়।

৬) সোডিয়াম – রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন, কোষের অসমোটিক ব্যালেন্স রক্ষা।

৭) সালফার – কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা, প্রোটিন সিনথেসিস।

৮) জিংক – রোগ প্রতিরোধ, ক্ষত পুরন, কোষের বিভাজন।

৯) পটাশিয়াম – শরীরের তারল্য ভারসাম্য, নার্ভ ইমপালস।

১০) মাঙ্গানিজ – পানির  ভারসাম্য, নার্ভ ইমপালস।

 

মিনারেলস এর উৎস ঃ

ক্যালসিয়াম: কাঠবাদাম, গাজর, দুধ, ব্রকলি, পেঁপে, রসুন | ক্লোরাইড: লবণ, দুধ, কলিজা, বাদাম, সয়াসস | কপার: চিংড়ি, বাদাম, ইস্ট | আয়োডিন: সামুদ্রিক খাদ্য, আয়োডিনযুক্ত লবণ | ম্যাগনেসিয়াম: মধু, কাঠবাদাম, সামুদ্রিক মাছ, আনারস, নানা পদের শাক | আয়রন: কলা, মিষ্টি আলু, ডিম, মাংস, নানা পদের শাক | ম্যাঙ্গানিজ: সিরিয়াল, হোল গ্রেইন, বাদাম, তেল, নানা রকমের শাক | সোডিয়াম: লবণ, পনির, দুধ, সয়াসস | সালফার: পনির, দুধ, বাদাম, শালগম, পেঁয়াজ, মাছ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, ব্রকলি | ফসফরাস: মাশরুম, কাজু বাদাম, কাঠ বাদাম, মাছ, শিম, গাজর। | পটাশিয়াম: পালং শাক, আপে, কমলা, কলা, টমেটো, লেবু, আনারস, মাশরুম, ডুমুর ইত্যাদি | মলিবডেনাম: বাদাম, শাক-সবজি, সিরিয়াল | সেলেনিয়াম: সামুদ্রিক খাবার, কলিজা |  জিংক: গরুর মাংস, চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম, মুরগীর মাংস, ডাল | নিকেল: কোকো, সয়াবিন, কাঠবাদাম, চিনা বাদাম।


: পানি :


পানি (রাসায়নিক সংকেত: H2O) হলো একটি অজৈব, স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন এবং প্রায় বর্ণহীন এক রাসায়নিক পদার্থ, যা পৃথিবীর বারিমণ্ডলের ও যে কোন জীব-কোষ বা উদ্ভিদ-কোষের একটি প্রধান উপাদান।

পানি, উদ্ভিদ প্রানীর অপরিহার্য উপাদান। কোষ অভ্যন্তর বহিস্ত স্তরে থাকা সকল জৈব অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। আর পানি দ্রবীভূত উপাদান রক্ত কোষ এর মিশ্রনই হচ্ছে  প্রানীর তরল পদার্থ। এই তরলের ৯৯% হচ্ছে পানি। একটি মানব দেহের ওজন যদি ৭০ কেজি হয় তবে  এর ৫০ কেজি হচ্ছে  পানি। এই পানির  ৩৫ কেজি  থাকে কোষের অভ্যন্তরে, ১০ কেজি থাকে কোষের বহিস্তরে ,বাকী কেজি থাকে বিভিন্ন নালীতে (টিউব)

২৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় পানি একটি নিরপেক্ষ বস্তু। অর্থাৎ এসিড বা ক্ষারীয় নয়। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা দুই অবস্থায় দেহের  পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়। দেহ কোষের প্রান রাসায়নিক কাজ পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট PH (পটেনশিয়ালিটি অব হাইড্রোজেন) প্রয়োজন।

কোষ মূলত পানির বড় ব্যাগ।  সমস্ত জীবন্ত বস্তুর উত্থানের জন্য দায়ী মূল অণুগুলি জলে গঠিত হয়েছিল। এর অর্থ হল জীবনের মৌলিক রসায়ন কাজ করার জন্য একটি মাধ্যম হিসাবে জল প্রয়োজন।

পানি এতটা আশ্চর্যজনক নয় যে সাধারণভাবে পানি অনেক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় কেবল এমন একটি পরিবেশ যেখানে অণুগুলি একে অপরের সাথে খুব সহজেই সংঘর্ষ করতে পারে।

প্রতিদিন দেহে ২৩০০ মিলি লিটার পানি প্রয়োজন হয়। সরাসরি পানি পান করতে হয় ১৪০০ লিটার। বাকী পানি খাদ্য গ্রহন বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত হয়।

দেহ তরলের বিনিময়ের মাধ্যমে কোষ অভ্যন্তর কোষ বহিস্তঃ নির্দিষ্ট পদার্থের আদান প্রদান সম্পন্ন হয়। কোষ বহিস্তঃ স্তর হতে পুষ্টি (অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি এসিড, গ্লুকোজ, ভিটামিন, মিনারেল পানি) অক্সিজেন, কোষ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পুষ্টি অক্সিজেন এর উপস্থিতিতে বিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিপাকীয় ক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ কোষের বাহিরের তরলে (রক্ত সোতে) মিলিত হয় এবং উক্ত বর্জ ঘাম, শ্বাস ত্যাগ, পায়খানা প্রশাবের এর মাধ্যমে দেহ হতে বেড়িয়ে যায়।



মোহাম্মদ ফেরদৌসুল হক

কনসালটেন্ট, ষ্টেমসেল নিউট্রেশন থেরাপি।


Comments

Popular posts from this blog